নতুন নির্দেশিকাটি কুচকাওয়াজ এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বেশ কিছু পুরোনো নিয়মও সংশোধন করেছে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকারী ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জন্য তলোয়ার বহন করা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১৮ জুন।।
ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের পোশাক ও সাজসজ্জা সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। সেনাবাহিনীর নতুন ম্যানুয়াল, “আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬,” ব্রিটিশ শাসনের দীর্ঘদিনের উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত বেশ কিছু বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন ?
সেনাবাহিনী জানিয়েছে , এই পরিবর্তনগুলির লক্ষ্য হল ভারতীয় সামরিক ঐতিহ্য বজায় রেখে দেশের পরিবর্তনশীল পরিচয় এবং বর্তমান চাহিদার সঙ্গে ইউনিফর্ম ও নিয়মাবলীকে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
খবর অনুযায়ী, ১৭৪ পৃষ্ঠার এই নতুন ম্যানুয়ালটি সেনা কর্তাদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের সঙ্গে গলা-বন্ধ বান্দি জ্যাকেট পরার অনুমতি দিয়েছে। এই প্রথমবার সেনাবাহিনী ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাককে আনুষ্ঠানিক সামরিক পোশাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইউনিফর্মের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য রং এবং নকশার বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকাটি কুচকাওয়াজ এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বেশ কিছু পুরোনো নিয়মও সংশোধন করেছে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকারী ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জন্য তলোয়ার বহন করা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। এছাড়াও, অনেক আনুষ্ঠানিক পোশাকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী পাউচ বেল্টটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী সকল পদের জন্য ‘ড্রেস ৩বি’ নামে একটি নতুন শীতকালীন ইউনিফর্মও চালু করেছে।
সাজসজ্জা এবং ব্যক্তিগত সাজসজ্জা সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, সেনাদের জন্য ট্যাটু এবং বডি পিয়ার্সিং নিষিদ্ধ থাকবে। ইউনিফর্মে ব্রেসলেট পরার অনুমতি দেওয়া হবে না, তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পৈতে পরার জন্য সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিখ সেনারা তাদের ধর্মীয় প্রতীকের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পেতে থাকবে। গোঁফের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মে ডিওডোরেন্ট এবং পারফিউম ব্যবহারও নিষিদ্ধ, যদিও আফটার-শেভ লোশন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সেনা বাহিনীর মহিলা অফিসারদের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

