কৈলাসহর ডেস্ক, ১১ জুলাই।।
                   জঙ্গল থেকে উদ্ধার দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ। নাম জুবেইদা বেগম। বাড়ি কৈলাসহরের ইরানি গ্রামে। শনিবার সকালে হীরাছড়া চা বাগানের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় ছাত্রীর ঝুলন্ত নিথর লাশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ময়না তদন্তের পর জুবেইদার মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। তবে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু কি আত্মহত্যা না খুন তা নিয়ে চলছে জল্পনা। তবে প্রাথমিক সিন অফ ক্রাইম অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে হত্যা করে আততায়ীরা জঙ্গলের গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। কারণ ঝুলন্ত লাশ থেকে অনেকটা দূরে পাওয়া গিয়েছে জুবেইদার ব্যবহৃত জুতো। প্রশ্ন উঠছে, সে যদি আত্মহত্যা করত তাহলে গাছের নিচেই থাকতো জুতো। এটাই স্বাভাবিক।
      ছাত্রী জুবেইদার শোকার্ত মায়ের বক্তব্য, শুক্রবার সকালে জুবেইদার তিন বান্ধবী তাকে ফোন করেছিল স্কুলে যাওয়ার জন্য। তাদের ফোন পেয়ে সেও চলে যায় নিজের বরখলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু এরপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল এবং সন্ধ্যা  গড়িয়ে রাত হলেও বাড়িতে আসে নি জুবেইদা। বহু খোঁজাখুঁজির পর আদরের মেয়েকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজন দ্বারস্থ হয় স্থানীয় থানা পুলিশে। ইরানি থানায় দায়ের করা হয় নিখোঁজ ডায়েরি।
           শনিবার সকালে এলাকার লোকজন বেরিয়ে পড়ে স্কুল ছাত্রী জুবেইদা বেগমের সন্ধানে। হীরা ছড়া চা বাগানের জঙ্গলের অনেকটা আগেই রাস্তায় পাওয়া যায় জুবেইদার ব্যবহৃত জুতো জোড়া। এই সূত্র ধরেই গ্রামের লোকজন জঙ্গলে প্রবেশ করে। কিছুটা পথ যেতেই জঙ্গলের একটি গাছে জুবেইদার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় তারা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে ইরানি থানার পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল মর্গে।

জুবেইদা বেগমের মৃত্যু কি নিছক আত্মহত্যা? নাকি খুন? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় লোকমুখে।ছাত্রীর মৃত্যুর পেছনে কি লুকিয়ে রয়েছে কোনো নর পিশাচের নারী মাংস ভক্ষণের হাড়হিম করা অপরাধের স্ক্রিপ্ট? তদন্ত করছে পুলিশ। বান্ধবীদের ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ কি ভেদ করতে পারবে স্কুল ছাত্রী জুবেইদার মৃত্যুর চক্রব্যূহে থাকা মূল রহস্য? তার জন্য অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুটা দিন।

      


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *