ঘটনা গত ২২ জুন সন্ধ্যায় আড়ালিয়া ঘোষ পাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় অটো চালক সুজিত ঘোষ নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অভিযোগ, এমন সময় স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ের সামনে তাকে আটক করে তিন অভিযুক্ত বাদল, অজিত ও অরিজিৎ। স্থানীয় তিন বাহুবলী অসহায় অটো চালককে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তী সময়ে অটো চালককে মারধরের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২৭ জুলাই।।
শহরের আড়ালিয়াতে প্রকাশ্যে রাজপথে অটো-রিকশা চালককে নৃশংসভাবে মারধরের মামলায় সোমবার আগরতলার জেলা আদালত প্রধান অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত পুলিশকে মামলার তিন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্তরা হলো বাদল ঘোষ, তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অজিত ঘোষ ও তার ছেলে অরিজিৎ ঘোষ। তাদের বাড়ি আড়ালিয়া ঘোষ পাড়া এলাকায়।
সামান্য বচসা কেন্দ্র করে এই জঘন্য ঘটনা সংঘটিত করেছে আড়ালিয়ার স্ব -ঘোষিত বিজেপির বাহুবলী ঘোষ পরিবার।
ঘটনা গত ২২ জুন সন্ধ্যায় আড়ালিয়া ঘোষ পাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় অটো চালক সুজিত ঘোষ নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অভিযোগ, এমন সময় স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ের সামনে তাকে আটক করে তিন অভিযুক্ত বাদল, অজিত ও অরিজিৎ। স্থানীয় তিন বাহুবলী অসহায় অটো চালককে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তী সময়ে অটো চালককে মারধরের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সাধারণ মানুষ। সামান্য বচসা কেন্দ্র করে এই জঘন্য ঘটনা সংঘটিত করেছে আড়ালিয়ার স্ব -ঘোষিত বিজেপির বাহুবলী ঘোষ পরিবার।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অটো চালক সুজিত ঘোষকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় আইজিএম হাসপাতালে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অটো চালক সুজিত ঘোষকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় আইজিএম হাসপাতালে। পরে শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়াতে তাকে রেফার করা হয় জিবি হাসপাতালে।
ঘটনার পর সুজিত ঘোষের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা সাহা (ঘোষ) পূর্ব আগরতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২৭(১), ১০৯, ১১৭(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করে ।
শহরের পূর্ব থানায় এফআইআর দায়েরের পর ঘটনা মিটমাট করতে মাঠে নামেন স্থানীয় শাসকদলের কয়েকজন সিকি – আধুলি নেতা।
শহরের পূর্ব থানায় এফআইআর দায়েরের পর ঘটনা মিটমাট করতে মাঠে নামেন স্থানীয় শাসকদলের কয়েকজন সিকি – আধুলি নেতা। তারা সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। ধান্দাবাজ বিজেপি নেতাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন হামলার শিকার হওয়া অটো চালক সুজিত ঘোষ ও তার স্ত্রী। তারা আইন ও বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখেন। এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে অনড় থাকেন।
আড়ালিয়া অঞ্চলের হাফ প্যান্ট পড়া বিজেপি নেতাদের রক্তচক্ষুতে পূর্ব থানার পুলিশের হাঁটু কাপতে শুরু করে।
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয়, থানায় মামলা দায়ের করার পরও পূর্ব থানার পেটি পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দুঃসাহস দেখাতে পারে নি। আড়ালিয়া অঞ্চলের হাফ প্যান্ট পড়া বিজেপি নেতাদের রক্তচক্ষুতে পূর্ব থানার পুলিশের হাঁটু কাপতে শুরু করে। তাই পুলিশ কর্তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে হাত ইউনিফর্মের পকেটে ঢুকিয়ে বসে থাকেন।
আইনজীবী আদালতে সওয়াল জবাবের সময় বলেন, ” প্রকাশ্যে সংঘটিত এই নৃশংস হামলার অভিযুক্তদের জামিন দিলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে সাধারণ মানুষ।”
পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক দেখে মামলার প্রধান অভিযুক্ত বাদল ঘোষ আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে জেলা আদালতের দ্বারস্থ হন। সোমবার এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি চলাকালে বাদী পক্ষের আইনজীবী সুব্রত সরকার অভিযুক্তদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক সূর্য ধর সিংহের আদালতে শুনানির সময় আইনজীবী সুব্রত সরকার ভাইরাল ভিডিও উপস্থাপন করেন। আইনজীবী আদালতে সওয়াল জবাবের সময় বলেন, ” প্রকাশ্যে সংঘটিত এই নৃশংস হামলার অভিযুক্তদের জামিন দিলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে সাধারণ মানুষ।” শুনানি পর্বের শেষে বিচারক সমস্ত তথ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত বাদল ঘোষের জামিন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে বাদল সহ তার দাদা অজিত ঘোষ ও ভাইপো অরিজিৎ ঘোষকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন তদন্তকারী পুলিশকে।

