বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, টেকনোলজি ইনোভেশন (প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন) যা হচ্ছে, তা ভারত–বাংলাদেশ মিলেই হচ্ছে। একটা ক্রিকেট দল যদি মিলেমিশে হয় তাহলে কত ভালো হবে। খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, টেকনোলজি সব মিলেমিশে কাজ করব। এ জন্য উভয় পক্ষের সমর্থন থাকতে হবে।

                            #সমীরণ রায়#
                        ________________

ঢাকা, ১২ জুন।।
    বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশটির মাটিতে পা রেখে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে মিলেমিশে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, দুই দেশের জনগণের জন্য যা ভালো হয় আগামী দিনে তা–ই করা হবে।
শুক্রবার বাংলাদেশের বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় বেনাপোল নো ম্যান্স ল্যান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সঙ্গে তার সহধর্মিণী মৃণাল ত্রিবেদী ছিলেন। পরে সড়কপথে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, টেকনোলজি ইনোভেশন (প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন) যা হচ্ছে, তা ভারত–বাংলাদেশ মিলেই হচ্ছে। একটা ক্রিকেট দল যদি মিলেমিশে হয় তাহলে কত ভালো হবে। খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, টেকনোলজি সব মিলেমিশে কাজ করব। এ জন্য উভয় পক্ষের সমর্থন থাকতে হবে।
এ সময় ‘পুশ ইন’ নিয়ে সীমান্তে উত্তাপ এবং ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ভারত ও বাংলার একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। আমার তো মনে হচ্ছে না, আমি বাংলাদেশে এসেছি। ভারতের ১৪০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি, এই ১৬০ কোটি জনগণের জন্য যা ভালো হয় সেটাই করা হবে। দুই দেশের জন্য ভালো হয় সেই পদক্ষেপ সামনের দিনে নেব।’
গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের সাবেক এমএলএ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মা। তাঁকে এরই মধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটল।  দুই দেশের ৫৫ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠাল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠিয়েছে ভারত সরকার। গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হলেও ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন তিনি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
একসময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত ছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০১৬ সালের পর তাঁদের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে শুরু করে। শেষমেশ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের মধ্য চলমান সীমান্ত উত্তাপ বন্ধ, ভিসা ও বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *