বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন। অন্যদিকে, প্রাথমিক বিভাগে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক এবং উচ্চ প্রাথমিক বিভাগে তিনজন। কিন্তু শিক্ষক সংকটের চেয়েও বড় অভিযোগ উঠছে কর্তব্যরত শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে।
তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৩ জুলাই ।।
শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০০৫ সালে তেলিয়ামুড়া মহকুমার মঙ্গিয়াকামী ব্লকের প্রত্যন্ত কাকড়াছড়া এলাকায় গড়ে উঠেছিল হাজরাপাড়া সিনিয়র বেসিক স্কুল। মুঙ্গিয়াকামী বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীনস্থ এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর আজ সেই বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র যেন সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন। অন্যদিকে, প্রাথমিক বিভাগে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক এবং উচ্চ প্রাথমিক বিভাগে তিনজন। কিন্তু শিক্ষক সংকটের চেয়েও বড় অভিযোগ উঠছে কর্তব্যরত শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, যাঁরা রয়েছেন তাঁদের একাংশ নাকি পাঠদানের চেয়ে নিজেদের মধ্যে আড্ডাতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।শিক্ষকের অপেক্ষায় ক্লাসরুম ফাঁকা পড়ে থাকে, আর ছোট ছোট কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় চত্বরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ অভিযোগটি সামনে এসেছে সরকারি ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্প নিয়ে। বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পাতে দুপুরের খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হচ্ছে শুধু ভাতের সঙ্গে আধা কাঁচা সেদ্ধ ডিম!যেখানে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার, সেখানে এই পুষ্টির বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে? কার পকেটে ঢুকছে সরকারি টাকা? কার গাফিলতিতে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এমন বিপজ্জনক আপস করা হচ্ছে?
গোটা বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মুখোমুখি হওয়া হলে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। উল্টে সংবাদমাধ্যমের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর এই নীরবতা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
এই সমস্ত ঘটনা সামনে আসার পর একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় শিশুদের ভবিষ্যৎ কি এভাবেই অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর লোকদেখানো কর্মকাণ্ডের বলি হবে?এভাবেই কি গড়ে উঠবে আগামী দিনের শিক্ষিত সমাজ?বিদ্যালয় পরিদর্শকের নজরদারি কেন এত দুর্বল?
এলাকাবাসী তথা সচেতন মহলের নজর এখন শিক্ষা দপ্তরের দিকে। শিক্ষা দপ্তর কি এই গুরুতর অভিযোগগুলির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে, নাকি বরাবরের মতো এবারও সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে? তাই এখন দেখার।

