একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আগরতলা রেল স্টেশনে মাদক চালান উদ্ধার কাণ্ডে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, আই জি আইন – শৃঙ্খলা মনচাক ইপ্পার সহ ডাক সাইটের পুলিশ আধিকারিকদের কাছে রেলের ওয়াগনে এসকফের বড় চালান আসার কোনো খবরই ছিলো না। এই বক্তব্য রাজ্য পুলিশের একাংশ এসপি পদ মর্যাদার আইপিএস আধিকারিকদের।

ডেস্ক রিপোর্টার,৬ জুলাই।।
     জিরানিয়া রেল স্টেশনের মাদক কাণ্ডের মতো আগরতলা রেল স্টেশনের মাদক কাণ্ডে “সুপার ফ্লপ” ত্রিপুরা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
  রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে গর্ভগৃহের তথ্য অনুযায়ী, জিরানীয়া মাদক কাণ্ডের খবরের মূল উৎস ছিলো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা SIB ও আসাম পুলিশ। কিন্তু রাজ্যের বাঘা বাঘা (!) পুলিশ অফিসার ছিলেন ঘুমে। হয় তো বা তারা ঘুমিয়ে ছিলেন চোখ খুলেই।
    একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আগরতলা রেল স্টেশনে মাদক চালান উদ্ধার কাণ্ডে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, আই জি আইন – শৃঙ্খলা মনচাক ইপ্পার সহ ডাক সাইটের পুলিশ আধিকারিকদের কাছে রেলের ওয়াগনে এসকফের বড় চালান আসার কোনো খবরই ছিলো না। এই বক্তব্য রাজ্য পুলিশের একাংশ এসপি পদ মর্যাদার আইপিএস আধিকারিকদের।


গত বৃহস্পতিবার মূলত এই অভিযান করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ডিআরআই – আসাম রাইফেলস, আরপিএফ, আরপিএসএফ। তারা পুলিশকে ডাকেই নি। ঘটনার রাতে রেল স্টেশনে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, আই জি আইন – শৃঙ্খলা মনচাক ইপ্পার। সেখানে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী ঘুরিয়ে কৃতিত্ব দিয়েছেন রেল পুলিশকে। তিনি বলছেন এখনো কাজ করছে রেল পুলিশ। সঙ্গে আছেন এসটিএফ।
        সত্যিই এটা রাজ্য পুলিশের “ধুরন্ধর” অফিসারদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। ছিঃ ছিঃ। পুলিশ কিছুই জানে না। ব্যর্থ গোয়েন্দা।
আসাম রাইফেলস নিজেদের ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছে। এই পোস্টে কৃতিত্বের তালিকায় নেই ত্রিপুরা পুলিশের নাম। আসাম রাইফেলস নিজেদের কৃতিত্বকে বড় করে দেখিয়েছে। এবং সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইআর ও আরপিএফের কথা উল্লেখ করেছে ফেসবুক পোস্টে। আসাম রাইফেলস তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা পোস্টে একবারের জন্যও ত্রিপুরা পুলিশের নাম উচ্চারণ করে নি।


তাহলে বলতেই হয় আগরতলা রেলস্টেশনের মাদক কাণ্ডে পুরোপুরি ব্যর্থ আইপিএস কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ! খোদ পুলিশ কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর দুর্বল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক নিয়েও।
     আগরতলা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে গোয়েন্দা আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী বলছেন, সম্প্রতি জিরানিয়াতেও রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা মাদকের চালান আটক করেছিলো। তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার  পদস্থ আধিকারিকরা আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর এই বক্তব্যকে মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, জিরানিয়া কাণ্ডের সাফল্য এসেছে SIB ও আসাম পুলিশের জন্য। ঘটনা সম্পর্কে ঘুনাক্ষরেও জানতো না ত্রিপুরা পুলিশ। বা জানলেও তারা ছিলো নীরব দর্শক। আর এই কারণেই কি আগরতলা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর দেওয়া  বক্তব্যে ছিল না আত্মবিশ্বাসের ছায়া?


রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে গুঞ্জন , পুরানো ‘কমরেড ‘ পুলিশ আধিকারিকরাই নাকি এখন হয়ে উঠেছেন গেরুয়া বাড়ির নব্য রামভক্ত। এক সময়ে হালের রামভক্ত পুলিশ আধিকারিকরা  স্যালুট জানাতেন প্রয়াত জাদরেল সিপিআইএম নেতা গৌতম দাসকেও। মন্ত্রী বা বিধায়কও ছিলেন না তিনি। এবার বুঝুন তারা কতটা পা চাটা? আজ অতীতের গৌতম দাসকে স্যালুট করা ” কমরেড ” পুলিশ আধিকারিকরাই নাকি রাজ্যের গেরুয়া শাসনে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের  দণ্ডমুন্ডের কর্তা?

প্রয়াত সিপিআইএম নেতা গৌতম দাস।

রামের প্রতি তাদের ভক্তি এতটাই গভীর যে চোখের সামনে আস্ত রেল ভর্তি মাদকের চালান রাজ্যে এলেও তারাই বেঁহুশ খোদ মাদকের গন্ধে। আসলে অতি ভক্তি যে চোরের লক্ষণ এটা আবারও প্রমাণ করেছে রাজ্য পুলিশ – গোয়েন্দার পরিচালকরা।একথা বলছেন, রাজ্য পুলিশে থাকা ‘কাবিল’ পুলিশ আধিকারিকরা। ছিঃ ছিঃ,লজ্জা লজ্জা।


রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা কি জানেন না অতীতের কমরেড পুলিশ অফিসারদের  নানান  অকীর্তির উপাখ্যান? এই মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রন্ধ্র রন্ধ্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *