রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, কেলরে বামেদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সে রাজ্যে নিজেদের অবশিষ্ট আসন ধরে রাখা। এবং যে কোনো মূল্যে বিজেপি বিরোধী আসন থেকে দূরে রাখা। কেরলে বামেদের উদ্বেগের বিষয় হল, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ১১ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি।একাধিক আসনে খাতাও খুলেছে ভাজপা। কেরলে বামে ভোট ব্যাঙ্ক ভেঙেই, এই ভোট বাক নিচ্ছে বিজেপির দিকে।

ডেস্ক রিপোর্টার, ৭ মে।।
    পাঁচ দশকে প্রথমবার। দেশীয় রাজনীতিতে ঘটলো বিরল ঘটনা। গোটা দেশে কোনও রাজ্যে
রইল না বামপন্থী সরকার। কেরলে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশে ঘটলো শেষ বামদুর্গের পতন। এমনকি কোনও রাজ্যে সরকারের জোট শরিক হিসাবেও নেই কমিউনিস্টরা।

দেশীয় রাজনীতির মানচিত্রে কেরল দিয়ে বামেদের সরকার গঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো।

দেশীয় রাজনীতির মানচিত্রে কেরল দিয়ে বামেদের সরকার গঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো।সালটা ১৯৫৭। প্রথমবার কেরলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাম সরকার।তারপর প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর কেরলে সরকার বদলের রীতি শুরু হয়। ব্যতিক্রম ছিল, তবে মোটের উপর এই ছিল কেরলের সরকার পরিবর্তনের রীতি।


কেরলে সরকার গঠনের দুই বছরের মধ্যেই

১৯৭৭-এ বঙ্গ সিপিএমের বিজয়রথ শুরু।

কেরলে সরকার গঠনের দুই বছরের মধ্যেই
১৯৭৭-এ বঙ্গ সিপিএমের বিজয়রথ শুরু। তারপরের বছরেই অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে ত্রিপুরায় বাম সরকারের উত্থান। টানা দশ বছর অর্থাৎ ১৯৮৮ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো ত্রিপুরায়। পাঁচ বছর বাদে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ফের ত্রিপুরার মসনদ দখল করে বামেরা। ক্ষমতায় ছিলো ২০১৮ সাল পর্যন্ত।তারপর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেরলে ছিলো বামেদের নির্বাচিত সরকার। একটা সময় দেশীয় রাজনীতিতে ছিলো বামেদের স্বর্ণ যোগ। বাংলা-ত্রিপুরা-কেরল তিন রাজ্যেই একসঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বাংলার পূর্বতন বাম সরকারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১১ সালে বাংলায় ছন্দ পতন ঘটে বামেদের। টানা ৩৫ বছরের সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে হেরে ভূত হয়ে যায়।

২০১১ সালে বাংলায় ছন্দ পতন ঘটে বামেদের। টানা ৩৫ বছরের সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে হেরে ভূত হয়ে যায়। এরপর বাংলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয় যায় কমিউনিস্টরা। তারপরও ত্রিপুরা ও কেরলের আকাশে উড়তো লাল ঝান্ডা। কিন্তু ২০১৮ সালে বিজেপির দমকা হাওয়াতে অপ্রত্যাশিত ভাবেই ক্ষমতার চেয়ার থেকে ছিটকে পড়ে কমিউনিস্ট সরকার।


ত্রিপুরাতেও বামেরা দুই দফায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিলো।

ত্রিপুরাতেও বামেরা দুই দফায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিলো।ত্রিপুরায় বাম সরকারের পতনের পরও কেরলে বামদুর্গের শেষ সলতে জ্বালিয়ে রেখেছিলেন কমিউনিস্ট নেতা পিনারাই বিজয়ন। ২৬- র বিধানসভা নির্বাচনে শেষ সম্বলটুকুও হারাতে হয় বামেদের। পতন ঘটে দেশের শেষ বাম দুর্গের। এই মুহূর্তে কেরলেও কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে বাম।

মানিক সরকার ও পিনারাই বিজয়ন।

কেরলে বামেদের উদ্বেগের বিষয় হল, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ১১ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, কেলরে বামেদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সে রাজ্যে নিজেদের অবশিষ্ট আসন ধরে রাখা। এবং যে কোনো মূল্যে বিজেপি বিরোধী আসন থেকে দূরে রাখা। কেরলে বামেদের উদ্বেগের বিষয় হল, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ১১ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি।একাধিক আসনে খাতাও খুলেছে ভাজপা। কেরলে বামে ভোট ব্যাঙ্ক ভেঙেই, এই ভোট বাক নিচ্ছে বিজেপির দিকে।


এক সময় বাম ভোট ব্যাঙ্কের ঠিক একই হাল  তৈরি হয়েছিলো বাংলার। রাজনীতিতে।আজ বাংলায় নিঃস্ব বামেরা। ক্ষমতায় বিজেপি।পরিষ্কার ভাবে বললে দেশীয় রাজনীতিতে এক সময়ের দুর্দণ্ড প্রতাপ বামেরা একেবারেই অসহায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *