মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী হাতে নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখকে ভিত্তি তারিখ (Qualifying Date) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই তারিখে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে বা তার বেশি হবে, তারা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
আগরতলা, ৭আগস্ট।।
রাজ্যের ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত ও আপটুডেট করে তুলতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-২০২৬ কর্মসূচি। শুক্রবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচি বিষয়ে বিস্তারিত জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ব্রিজেশ পান্ডে। তিনি জানান, ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার পরে আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী হাতে নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখকে ভিত্তি তারিখ (Qualifying Date) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই তারিখে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে বা তার বেশি হবে, তারা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। এই সংশোধনী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মৃত, স্থানান্তরিত, পুনরাবৃত্ত (ডুপ্লিকেট) বা অন্য যেকোনো অযোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।
কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ব্রিজেশ পান্ডে বলেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পূর্বেই প্রস্তুত করা এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করবেন এবং ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণে সহায়তা করবেন। ভোটারদের সুবিধার্থে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার সময় কোনো নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে না। শুধুমাত্র এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে অন্তত তিনবার যাওয়ার জন্য বিএলও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার তালিকার বাইরে না থাকেন। ভোটাররা চাইলে অনলাইন পোর্টাল অথবা ইসিআইনেট (ECINET) অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেও এনুমারেশন ফর্ম পূরণ ও জমা দিতে পারবেন। প্রয়োজন হলে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করবেন।
তিনি আরও জানান, ২১ অক্টোবর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা নির্ধারিত স্থানের পাশাপাশি নির্বাচন দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে এবং স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকেও এর কপি সরবরাহ করা হবে। এরপর ২১ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন বা বর্জন সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজ্যের বর্তমান ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, বর্তমানে ত্রিপুরার ৬০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৮ লক্ষ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে ১৪ লক্ষ ৫২ হাজার পুরুষ এবং ১৪ লক্ষ ৪৫ হাজার মহিলা ভোটার রয়েছেন। এই বিশাল কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার জন্য রাজ্যের ৩ হাজার ৩৫৬টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৫৬ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং ৩৭৫ জন BLO সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের সুবিধার্থে ২০০৫ সালের বিশেষ ভোটার তালিকাও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আরও জানান, এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, সহকারি ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, বুথ লেভেল অফিসার, রাজনৈতিক দল এবং বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য, জেলা ও মহকুমা স্তরে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরও জানান, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ERO) সিদ্ধান্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে প্রথমে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (District Election Officer)-এর কাছে এবং পরবর্তীতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে। ভোটারদের দ্রুত তথ্য ও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিটি জেলা ও মহকুমা স্তরে হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে। এছাড়া জেলা ও রাজ্য স্তরে টোল-ফ্রি নম্বরও চালু থাকবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই বৃহৎ কর্মসূচি সফল করতে সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকাই অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মূল ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিশ্বাস না করে নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য অনুসরণের পাশাপাশি এই বিশেষ সংশোধন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়েন এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকেন-এই লক্ষ্য নিয়েই এসআইআর-২০২৬ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ঊষা জেন মগ, উপ-মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুমন বনিক।

