নতুন সভাপতির চেয়ার যেমন মর্যাদার, তেমনই তাঁর সামনের পথ যে কাঁটায় বিছানো, তা মানছেন অতি বড় বিজেপির সমর্থকরাও। প্রদেশ সভাপতির চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গেই  অভিষেক দেবরায়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক কঠিন প্রশ্ন ও অগ্নিপরীক্ষা। এই কঠিন হার্ডেল টপকাতে পারলেই অভিষেক নিজেকেও প্রমাণ করতে পারবেন একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে।

ডেস্ক রিপোর্টার,৩০ মে।।
                অবশেষে সমস্ত জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক গুঞ্জনের অবসান ঘটল। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন এবং  উপনির্বাচনগুলো ও সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসক দল বিজেপির রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অভিষেক দেবরায়কে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি করে তাতে সিলমোহর দিয়েছে ভাজপার  কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন প্রজন্মের দিকে বিশেষ নজর দিয়ে এবং তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতির  দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে  বিধায়ক অভিষেক দেবরায়ের হাতে।
         বিজেপির এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। তবে নতুন সভাপতির চেয়ার যেমন মর্যাদার, তেমনই তাঁর সামনের পথ যে কাঁটায় বিছানো, তা মানছেন অতি বড় বিজেপির সমর্থকরাও। প্রদেশ সভাপতির চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গেই  অভিষেক দেবরায়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক কঠিন প্রশ্ন ও অগ্নিপরীক্ষা। এই কঠিন হার্ডেল টপকাতে পারলেই অভিষেক নিজেকেও প্রমাণ করতে পারবেন একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে।
      নতুন প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রথম যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে অভিষেক দেবরায়কে, তা হলো আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন। এডিসি এলাকার এই নির্বাচন নয়া সভাপতির জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনে দলের ফলাফলই প্রমাণ করবে গ্রামীণ ও জনজাতি এলাকায় নতুন সভাপতি কতটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারলেন।
তাছাড়া রাজ্যে বর্তমানে বিজেপি, তিপ্রামথা এবং আইপিএফটির জোট সরকার চলছে। কিন্তু নিচুতলায় তিন দলের কর্মীদের মধ্যে সুপ্ত টানাপোড়েন মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে আসে। পাহাড় ও সমতলের এই জটিল রাজনৈতিক রসায়নে দাঁড়িয়ে নতুন সভাপতি কি পারবেন তিন দলকে একসূত্রে গেঁথে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যেতে? মথা ও আইপিএফটি-র দাবি দাওয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে দলের আধিপত্য টিকিয়ে রাখা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে। এই ক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল হবেন? তা বলবে সময়েই।
       “ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ‘আদি’ বনাম ‘নব্য’ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াইয়ের গুঞ্জন শোনা যায়। একই সাথে রয়েছে অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোত।
             অভিষেক দেবরায়ের মতো একজন তরুণ নেতার পক্ষে সবাইকে নিয়ে একসাথে চলা এবং প্রবীণ-নবীনদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি কি পারবেন এই ভেদাভেদ ভুলিয়ে সবাইকে এক ছাতার তলায় আনতে? প্রশ্ন খোদ ভাজপার নেতা কর্মীদের।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিমত দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময়ই প্রশাসনের সাথে দলীয় সংগঠনের দূরত্ব তৈরি হয়, যা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। নতুন সভাপতির আরেকটি বড় কাজ হবে—প্রশাসনিক স্তরের সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক স্তরের একটি সুস্থ ও মজবুত সমন্বয় গড়ে তোলা।
         সে যাই হোক,নতুন সভাপতির হাত ধরে ত্রিপুরা বিজেপি কোন নতুন দিশায় এগোবে, তিনি এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ সামলে বৈতরণী পার করতে পারবেন কি না—তা সময়ই বলবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *