ভিলেজ ভোটে তিপ্রামথার গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তরের সংগঠন ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর ইএম পদগুলো ফাঁকা রেখে প্রদ্যোত কিশোর দলের জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন— যারা ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে দলকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবেন, প্রশাসনে বা এডিসির ক্যাবিনেটে তাদেরই পুরস্কৃত করা হবে।পদ আগেভাগে দিয়ে দিলে বাকিদের মধ্যে যে ঢিলেঢালা ভাব আসার আশঙ্কা থাকে, তা রুখতেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১৭ জুন।। ত্রিপুরা এডিসির নতুন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন রুনিয়েল দেববর্মা। কিন্তু চমকপ্রদ বিষয় হলো, সিইএম পদের ঘোষণা ও শপথ হয়ে গেলেও, অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এডিসির মন্ত্রিসভা বা কার্যনির্বাহী কমিটি এখনই পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। তিপ্রামথার এই রণকৌশলের পেছনে আসলে কী কারণ রয়েছে? দলের অন্দরেই কি তবে কোনো চোরা স্রোত বইছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের কোনো সুদূর প্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে?
এডিসিতে কেন শুধু মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্যকে বসানো হলো? বাকি এমডিসিদের ভাগ্য কেন ঝুলে রইল?গোষ্ঠীবাজি নাকি ভিলেজ কমিটির স্ট্র্যাটেজি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যেকোনো বড় জয়ের পর বা নতুন করে ক্ষমতা বিন্যাসের সময় দলের অন্দরে মন্ত্রিত্ব বা ইএম পদের জন্য প্রবল দাবিদার তৈরি হয়। একসাথে সমস্ত পদের নাম ঘোষণা করলে টিকিট না পাওয়া গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ বা অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসতে পারত। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন হয়তো এই মুহূর্তে সেই ‘গোষ্ঠীবাজির’ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঝুঁকি নিতে চাননি। সবাইকে আলোচনা ও ভারসাম্যের মধ্যে রাখতেই এই ধীরগতির কৌশল।সবচেয়ে বড় যে কারণটি উঠে আসছে, তা হলো আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচন। ভিলেজ ভোটে তিপ্রামথার গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তরের সংগঠন ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর ইএম পদগুলো ফাঁকা রেখে প্রদ্যোত কিশোর দলের জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন— যারা ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে দলকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবেন, প্রশাসনে বা এডিসির ক্যাবিনেটে তাদেরই পুরস্কৃত করা হবে।পদ আগেভাগে দিয়ে দিলে বাকিদের মধ্যে যে ঢিলেঢালা ভাব আসার আশঙ্কা থাকে, তা রুখতেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত।
এর ফলে পদের আশায় বুক বাঁধা নেতারা এখন ভিলেজ কমিটির লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে বাধ্য হবেন।তাছাড়া এডিসির অধীনে বিভিন্ন উপজাতি ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সিইএম পদের পর বাকি পদগুলোতে কোন অঞ্চলের বা কোন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি বসবেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ভিলেজ কমিটির টিকিট বণ্টন এবং ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখেই এই জাতিগত ভারসাম্য সাজাতে চাইছে মথা নেতৃত্ব। আপাতদৃষ্টিতে একে প্রশাসনিক বিলম্ব মনে হলেও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একে মথা সুপ্রিমোর একটি অত্যন্ত চতুর এবং হিসেবি ‘রণকৌশল’ হিসেবেই দেখছেন। একদিকে দলের ভেতরের রাশ শক্ত হাতে ধরে রাখা, আর অন্যদিকে আসন্ন ভিলেজ কমিটির বৈতরণী পার হওয়া— এক ঢিলে দুই পাখি মারার এই রণকৌশল মথা-কে কতটা রাজনৈতিক ফায়দা দেয়, এখন সেটাই দেখার।