এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী জানায়, তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি মেয়েকে ভালোবাসত এবং তারা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। কৃষ্ণর পরিবার এই বিয়ে মেনে নিলেও, মেয়েটির পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি।

ডেস্ক রিপোর্টার, ২৪ জুলাই।।
            দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমাধীন পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় শুক্রবার ঘটল এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একই পরিবারের তিন সদস্য—গৃহকর্তা শঙ্কর চক্রবর্তী,তার সহধর্মিনী ছবি চক্রবর্তী এবং তাদের ছেলে কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
        ঘটনার খবর পেয়ে বাইখোড়া থানা, বিলোনিয়া থানার পুলিশ এবং দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই বিষয়ে মৃত শঙ্কর চক্রবর্তীর অপর ছেলে মিঠুন চক্রবর্তী জানায়, তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো কাজে গেলেও শুক্রবার সে স্বাভাবিক সময়ের আগেই ঘরে ফেরেন।
ঘরে ফিরে কৃষ্ণ তার দাদা মিঠুনকে বলে বাবাকে ডেকে এনে স্নান করাতে এবং পরিবারের সবাইকে স্নান সেরে নিতে, কারণ তারা বাইরে বের হবেন। সবাই স্নান সারার পর, মিঠুনকে কাকার বাড়ি থেকে লকারের চাবি নিয়ে আসার জন্য পাঠানো হয়।চাবি আনতে গিয়ে মিঠুন তার মা ও ভাইকে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো উত্তর পাননি। সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত বাড়ি ফিরে এসে দেখেন দরজা-জানালা সব বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে, ঘরের পেছনের দিকের একটি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পান ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে।ভাইকে বাঁচানোর তাগিদে ঘরে ঢোকার পর মিঠুন দেখতে পান মা ছবি চক্রবর্তীর গলা কাটা অবস্থায় রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে এবং বাবা শঙ্কর চক্রবর্তীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন।
         এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী জানায়, তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি মেয়েকে ভালোবাসত এবং তারা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। কৃষ্ণর পরিবার এই বিয়ে মেনে নিলেও, মেয়েটির পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি।মিঠুন চক্রবর্তীর দাবি,তাদের নিজেদের পরিবারে কোনো অশান্তি ছিল না। এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে মেয়েটির বাড়ির লোকজনের হাত রয়েছে বলে সে সরাসরি অভিযোগ তুলছে।
        এটি কি পারিবারিক টানাপোড়েন থেকে সৃষ্ট হত্যা ও আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বহিরাগত চক্রান্ত রয়েছে—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *