ডেস্ক রিপোর্টার,৬ অক্টোবর।।
      রাজ্য সরকারের কর্মচারি ও পেনশনারদের জন্য আরও ৩ শতাংশ ডিএ ও ডিআর এবং নিয়মিত সরকারি কর্মচারিদের জন্য হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স বেসিকের ১০ শতাংশ করার কথা আজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ৩ শতাংশ ডিএ-ডিআর কার্যকর হলে মোট মহার্ঘ্য ভাতা বেড়ে ৪৪ শতাংশ হবে। এই বর্ধিত ডিএ-ডিআর ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং এর ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের কর্মচারিদের ডিএ-ডিআর ফারাক কমে ১৬ শতাংশ হবে। একইসঙ্গে নিয়মিত কর্মচারিদের এইচআরএ বেসিক পে-র ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বছরে অতিরিক্ত ১৪১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। এইচআরএ-র সর্বোচ্চ সীমা ৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা করা হয়েছে এবং বর্ধিত হারও ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি কর্মচারিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কর্মচারিদের বেতন কাঠামো উন্নত করতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৫ থেকে ২.৫৭ করা হয়েছে, ফলে বেসিক পে প্রায় ১৪.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ডিএ-ডিআর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০২২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮ শতাংশ ডিএ-ডিআর বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে কর্মচারিদের স্বার্থে আগামী দিনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারও বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কর্মচারিদের স্বার্থ ও রাজ্যের আর্থিক অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, কর্মচারিদের ছুটির ক্ষেত্রে সংশোধনীর মাধ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৮৫ দিনের বেশি কিন্তু ৩০০ দিন বা তার কম আর্নড লিভ থাকলে পরবর্তী ১৫ দিনের অগ্রিম ছুটি আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কর্মচারিদের অর্জিত ছুটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নষ্ট না হয়।
দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-জট নিরসনে পদোন্নতি নীতি, ২০২১ চালু করে অ্যাডহক পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নীতিতে অ্যাডহক পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারিদের সংশ্লিষ্ট তারিখ থেকে সার্ভিস ও অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে নিয়মিত পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তাছাড়া মহিলাদের সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু, ডাই-ইন-হারনেস ব্যবস্থাকে সুচারু করা হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সিভিল সার্ভিস আধিকারিকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিপার্ডের মাধ্যমে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইআইএম কলকাতা ও বিপার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়।









Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *