ডেস্ক রিপোর্টার, ২১ জুলাই।।
          সোমবার সকাল থেকেই এক ভারী বিষাদ ছেয়ে ছিল গোটা আগরতলায়। প্রথমে প্রয়াত ডিজিপির সরকারি বাসভবনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সেখান থেকে কফিন বন্দি দেহ নিয়ে আসা হয় রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে। সেখানে প্রিয় ‘স্যার’-কে শেষবারের মতো জানানো হয় গান স্যালুট ও শেষ সেলামি। ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি সহ রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেলুট জানান অনুরাগ ধ্যানকরকে।
    পুলিশ সদর দপ্তরের পর প্রয়াত ডিজিপির কফিন বন্দি দেহ নিয়ে আসা হয় রাজ্য মহাকরণে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, মন্ত্রী রতনলাল নাথ, সুশান্ত চৌধুরী, প্রণজিৎ সিংহ রায় সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
        এদিন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন,ডিজিপি অনুরাগ একজন অত্যন্ত সৎ ও দায়িত্ববান ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর কার্যকালে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভূত উন্নতি ঘটেছিল।
মহাকরণের পর্ব শেষে প্রয়াত ডিজিপির দেহ নিয়ে আসা হয় এমবিবি বিমানবন্দরে। সেখান থেকেই বিশেষ বিমানে দিল্লি হয়ে বাগপথের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ দল।
কিন্তু শোকের এই আবহেই ছড়িয়ে রয়েছে এক গভীর রহস্য আর তীব্র চাঞ্চল্য! নিজ কার্যালয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় স্তব্ধ গোটা রাজ্য। সবার মনে আজ একটাই প্রশ্ন—ঠিক কী এমন ঘটেছিল, যার জন্য অফিসে দায়িত্ব সামলানোর মধ্যেই এমন চরম ও মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা?এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জানান,ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
       এক দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ আধিকারিককে হারিয়ে ত্রিপুরা আজ গভীর শোকে আচ্ছন্ন। তবে শোকের আবহেও থেকে যাচ্ছে হাজারো অনুত্তরিত প্রশ্ন। মৃত্যুর পেছনের আসল সত্য ঠিক কী? তদন্তের পরেই তা প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করছে রাজ্যবাসী।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *