এই নিস্তব্ধতাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘ঝড়ের পূর্বাবভাস’ হিসেবে। বাইরে কোলাহল না থাকলেও, দলগুলোর ভেতরে চলছে তীব্র অভ্যন্তরীণ মন্থন। আসলে, এটি উদাসীনতা নয়—বরং দলগুলোর সুচিন্তিত রাজনৈতিক রণকৌশল। প্রকাশ্য সভার চেয়ে এখন দলগুলির মূল লক্ষ্য তৃণমূল স্তরে সাংগঠনিক ফাঁকফোকর মেরামত করা।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১৩ জুলাই।।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে অবশেষে কাটতে চলেছে আইনি জট। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে অর্থাৎ ২৭শে সেপ্টেম্বর এডিসি এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ৫৮৭ টি ভিলেজ কমিটির নির্বাচন। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও, ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলির প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। জনসভা বা মিছিলের মতো চেনা চটুল প্রচার থেকে কেন দূরে রয়েছে দলগুলো? এর পেছনে কি কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি সবটাই রণকৌশল? কি বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা? এর অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।
এডিসি এলাকার স্বায়ত্তশাসন ও গ্রামীণ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো ভিলেজ কমিটি।২০২১ সাল থেকে আটকে থাকা এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে সুপ্রিম কোর্ট এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো অজুহাত না শুনে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের এই নির্দেশের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোমর বেঁধে নামলেও, পাহাড়ি রাজনীতির ময়দান আপাতদৃষ্টিতে শান্ত। বড় কোনো রাজনৈতিক দলের নেই প্রকাশ্য কোনো বড় কর্মসূচি।
তবে এই নিস্তব্ধতাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘ঝড়ের পূর্বাবভাস’ হিসেবে। বাইরে কোলাহল না থাকলেও, দলগুলোর ভেতরে চলছে তীব্র অভ্যন্তরীণ মন্থন। আসলে, এটি উদাসীনতা নয়—বরং দলগুলোর সুচিন্তিত রাজনৈতিক রণকৌশল। প্রকাশ্য সভার চেয়ে এখন দলগুলির মূল লক্ষ্য তৃণমূল স্তরে সাংগঠনিক ফাঁকফোকর মেরামত করা।
কেন এই নীরব রণকৌশল? তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী –
প্রথমতঃ, ৫৮৭ টি ভিলেজ কমিটির জন্য যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত এবং স্থানীয় স্তরে জনপ্রিয় মুখ খুঁজে বের করা। আগেভাগে নাম প্রকাশ করলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দেওয়ার ভয়।
দ্বিতীয়তঃ,সাম্প্রতিককালে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট হয়েছে। নতুন এবং পুরনো দলগুলির মধ্যে ভোটার ধরে রাখার এক অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
তৃতীয়তঃ,নির্বাচনী দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই শক্তি ক্ষয় না করে,আসল লড়াইয়ের জন্য নিজেদের আর্থিক ও সাংগঠনিক সম্পদ ধরে রাখাই হয়ত কৌশল।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করলেই হুড়মুড়িয়ে ময়দানে ঝাঁপাবে শাসক থেকে বিরোধী—সব পক্ষই? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা ‘হ্যাঁ’। বিজ্ঞপ্তি জারির সাথে সাথেই পাহাড়ের রাজনীতিতে পারদ চড়বে হু হু করে। কারণ, সদ্য সমাপ্ত এডিসি নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ভিলেজ কমিটি নির্বাচন আগামী দিনে পাহাড় রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য কার দিকে ঝুঁকবে, তা নির্ধারণ করবে।সে যাই হোক,আপাতত নীরবতার চাদরে ঢাকা পাহাড়ি রাজনীতি। তবে ভেতরের খসড়া বলছে, সেপ্টেম্বর শেষের এই লড়াই হতে চলেছে কাঁটায় কাঁটায়।আর বাকিটা অবশ্য সময়ই বলবে।

