ডেস্ক রিপোর্টার, ২১ অক্টোবর।।
          ভারতের রাজনীতিতে একসময়ের দাপুটে বামশক্তি আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে শুরু করে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সংসদীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্যস্তরে বামেদের বর্তমান চিত্রটি হতাশাজনক।
জাতীয় রাজনীতিতে বাম দলগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব এখন বেশ সীমিত।বর্তমান লোকসভায় সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-সহ প্রধান বাম দলগুলির মোট সাংসদ সংখ্যা মাত্র ৮ জন। যার মধ্যে সিপিআই(এম)’র সাংসদ সংখ্যা ৪, সিপিআই ২ এবং সিপিআই(এমএল)’র – ২জন।
রাজ্যসভা তথা উচ্চকক্ষেও বামেদের শক্তি হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে রাজ্যসভায় প্রধান বাম দলগুলির সম্মিলিত সদস্য সংখ্যা মাত্র ৭ জন।
যার মধ্যে সিপিআই(এম)’র সাংসদ সংখ্যা ৩, সিপিআই ২ এবং সিপিআই(এমএল)’র ২জন।
    এবার দেখা যাক কোন রাজ্যে বামেদের কেমন দাপট।বর্তমানে ভারতের রাজনীতিতে বামেদের একমাত্র প্রধান দুর্গ ও শেষ রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল হলো কেরালা। এখানে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মোটামুটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে দলটি অত্যন্ত প্রভাবশালী।বিধানসভায় তাদের সদস্য সংখ্যা ৩৭।
এছাড়া একসময়ে বামেদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ত্রিপুরায় বর্তমানে তারা প্রধান বিরোধী দলগুলির অন্যতম হিসেবে লড়ছে। বিধানসভায় তাদের ১০ জন বিধায়ক রয়েছে। যদিও একসময়ের সেই একচ্ছত্র ক্ষমতা এখন আর নেই।বিশেষ করে পাহাড়ে তাদের শক্তি তলানিতে ঠেকেছে।সদ্য সমাপ্ত ভিলেজ কমিটির ভোটের ফলাফলই তার প্রমান।এই অবস্থায়
কোথায় প্রায় শূন্য বা কোণঠাসা বর্তমানে বামেরা।তারমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, যে রাজ্যটিতে একটানা ৩৪ বছর বামেরা সরকার চালিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, সেই পশ্চিমবঙ্গে আজ বিধানসভায় বামেদের প্রতিনিধিত্ব ১জন। বিগত বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে রাজ্যজুড়ে বামেরা একাধিক আসন জয় করতে না পারলেও, সংগঠনের পুনরুজ্জীবনে তরুণ মুখ ও নানা সামাজিক ইস্যুতে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।এছাড়া
অন্যান্য রাজ্য তামিলনাড়ু, বিহার, ঝাড়খণ্ড বা তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, জম্মু কাশ্মীর ও ওড়িশার মতো রাজ্যে মূলধারার বড় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বিধায়ক বা সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তারা ধরে রেখেছে।
     মোটের উপর সারা দেশে বামেদের মোট ৬১ জন বিধায়ক রয়েছে।জাতীয় রাজনীতিতে এককালের নির্ণায়ক শক্তি বামেরা আজ প্রান্তিক জায়গায় পৌঁছেছে ঠিকই, তবে কেরালা সহ রাজ্যের এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে তাদের উপস্থিতি ভারতীয় রাজনীতিতে বামপন্থী মতাদর্শের প্রাসঙ্গিকতাকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে।এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরা রাজ্যে পুরভোটে দরজায় কড়া নাড়ছে।ফলাফল কি হবে তা অবশ্য সময়ই বলবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *