তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ১১ জুন।।
           সরকারি অফিস কি জনগণের সেবা দেওয়ার জায়গা, নাকি কিছু সরকারি কর্মচারীর ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগের কেন্দ্র? তেলিয়ামুড়া ও কল্যাণপুর আই.সি.ডি.এস দপ্তর ঘিরে উঠেছে এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
       অভিযোগের তির তেলিয়ামুড়ার চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার,পৃথিলা প্রসূন দাস,কল্যাণপুরের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার,প্রদীপ দেবনাথ এবং তেলিয়ামুড়া সি.ডি.পি.ও অফিসের সুপারভাইজার চন্দন সূত্রধরের দিকে।
        অভিযোগ, উল্লিখিত আধিকারিক ও কর্মচারীরা নিয়মিত নির্ধারিত অফিসের সময় উপেক্ষা করে নিজেদের সুবিধামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা প্রায়শই আগরতলা-শিলচরগামী দুপুর ১২টার ট্রেনে তেলিয়ামুড়া পৌঁছান এবং সরকারি গাড়ি রেলস্টেশন থেকে তাঁদের সসম্মানে নিয়ে অফিসে আসে।অভিযোগকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি চাকুরির দায়িত্ববোধের বদলে এখানে চলছে রেলের সময়সূচি মেনে ‘রাজকীয়’ অফিস পরিচালনা!
          বৃহস্পতিবার বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা সরাসরি মাঠে নামলে কিছু চাঞ্চল্যকর দৃশ্য সামনে আসে। দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে সরকারি গাড়ি উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ‘রিসিভ’ করছে।এ বিষয়ে চন্দন সূত্রধরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, সেদিন বিশেষ কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে তাঁরা প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হন।    অপরদিকে পৃথিলা প্রসূন দাস দেরি করে অফিসে নিত্যদিন আসার বিষয়টি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্বীকার করেছেন।
      এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— যেসব দপ্তরের উপর গর্ভবতী মা, প্রসূতি মহিলা ও শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিকাশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যাস্ত, সেখানে যদি আধিকারিকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিয়েই খামখেয়ালিপনার প্রশ্ন ওঠে, তবে সাধারণ মানুষ ভরসা করবে কার ওপর? তাছাড়া এই সমস্ত অফিস ফাঁকিবাজদের উপর কি কোন প্রশাসনিক নজর নেই?যদি সত্যিই নজর থাকত তাহলে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এই সমস্ত তথাকথিত সরকারি অফিসাররা কি অফিস ফাঁকি দিতে পারতেন?সরকার যেখানে অফিসে অফিসে সুস্থ কর্মসংস্কৃতির বার্তা দিয়েছে,সেখানে একাংশ সরকারি কর্মচারী সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজ শ্বার্থ সিদ্ধি করে নিচ্ছে।এতে স্বাভাবিকভাবেই জন মানসে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্চে।আর তা একদিন না একদিন বিস্ফোরণ যে ঘটবে তা বলাই বাহুল্য।


        


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *