খোয়াই থানাধীন দুর্গানগর এলাকায় বিএসএফেরর অভিযানে একটি বড়সড় সাফল্য আসলেও সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। এদিন তল্লাশি চালিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা ১০ কেজি শুকনো গাঁজা এবং ৪৮ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
খোয়াই ডেস্ক,৭ এপ্রিল।।
আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যস্ততা তুঙ্গে। নির্বাচন সামলানো এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যখন প্রশাসনিক আধিকারিকরা নাজেহাল, ঠিক তখনই এই পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে মাদক পাচার চক্র। খোয়াই মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে নেশা সামগ্রীর পাচার বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তাহলে কি ‘ফেন্সি কিং’রা খোয়াইতে জাগ্রত? ৯০ ভাগ নেশা সামগ্রী সীমান্ত ওপার পাচার হয়ে যাবার পর ১০ শতাংশ নেশা সামগ্রী উদ্ধার করলো বিএসএফ। এনিয়ে জনমনে কৌতূহল বিরাজ করছে।
খবর, সোমবার খোয়াই থানাধীন দুর্গানগর এলাকায় বিএসএফেরর অভিযানে একটি বড়সড় সাফল্য আসলেও সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। এদিন তল্লাশি চালিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা ১০ কেজি শুকনো গাঁজা এবং ৪৮ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত এই নেশা সামগ্রীগুলো আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য খোয়াই থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রের খবর, দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী থাকলেও প্রতিটি ইঞ্চিতে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। একজন সীমান্ত রক্ষী থেকে অন্যজনের মধ্যবর্তী যে দূরত্ব থাকে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই অন্ধকারের কারবারিরা এপার থেকে ওপারে মাদক সামগ্রী পাচার করছে। অনেক সময় বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই বিএসএফ ধাওয়া করে কিছু সামগ্রী উদ্ধার করতে পারলেও, বড় একটি অংশ অধরাই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রশাসনের সমস্ত নজর এখন নির্বাচনের দিকে থাকায় শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদক সাম্রাজ্যের ‘বাদশা’রা একপ্রকার নির্ভয়ে তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যখন রাজনৈতিক সভার নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসন ব্যস্ত, অন্যদিকে তখন যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই মরণ নেশার কারবার। নির্বাচনের এই ডামাডোলের মধ্যে নেশার এই রমরমা কারবার কীভাবে আটকানো সম্ভব হবে, এখন সেটাই সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।

