এবার হাওয়া কোনদিকে বইছে, সেটা বোঝা যাবে আগামী ৪ মে। কিন্তু এবার দ্বিতীয় দফায় যে ১৪২টি আসনে (উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া এবং নদিয়া) ভোট, সেখানে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই হাওয়া বয়েছে।
কলকাতা ডেস্ক, ২৮ এপ্রিল।।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণের আগে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাড়ির ড্রয়িংরুমে আপাতত সেই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষত প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটদানের হার ৯৩.১৯ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি বিধানসভা আসনের ভোটাররা ধন্দে পড়ে গিয়েছেন যে হাওয়া কোনদিকে বইছে?
এবার হাওয়া কোনদিকে বইছে, সেটা বোঝা যাবে আগামী ৪ মে। কিন্তু এবার দ্বিতীয় দফায় যে ১৪২টি আসনে (উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া এবং নদিয়া) ভোট, সেখানে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই হাওয়া বয়েছে। হাওয়া বয়েছে বললেও ভুল বলা হবে, নদিয়ার একাংশ (মতুয়া-অধ্যুষিত আসন) বাদ দিয়ে বেশিরভাগ জায়গাই আসলে তৃণমূলের দক্ষিণবঙ্গের গড়ের মধ্যে পড়ে – তৃণমূলের কাছে এটা ঘরের মাঠ।
বুধবার যে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে বিজেপির আক্রমণাত্মক প্রচারের মধ্যেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১২৩টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। অর্থাৎ স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৬.৬৬ শতাংশের মতো। বিজেপি জিতেছিল মাত্র ১৮টি আসনে। নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফের ঝুলিতে একটি আসনে গিয়েছিল। আর এই সাতটি জেলায় দুর্দান্ত ফলাফলের সুবাদে তৃতীয়বারের জন্য নবান্ন দখল করেছিল তৃণমূল।
অর্থাৎ ব্যাপারটা খুব স্পষ্ট – দক্ষিণবঙ্গের বাধা না পেরোলে নবান্নের পথে পা রাখা যাবে না। এক তৃণমূল নেতা স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই অংশটা চিরকালই আমাদের সবথেকে শক্তিশালী জায়গা ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানকার মানুষ আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা যদি এবারও এই অঞ্চলটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবে বাংলা।’ একইসুরে বিজেপি নেতা বলেছেন, ‘দক্ষিণবঙ্গে ফাটল না ধরিয়ে ক্ষমতা দখলের কোনও বিকল্প রুট নেই। উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং হাওড়া হল আসল যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানেই পরিবর্তন হতে হবে।’

