রোগীদের প্রশ্ন—মেশিন যদি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে? রোগীদের চিকিৎসা যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

ডেস্ক রিপোর্টার,২ সেপ্টেম্বর।।
         ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধির চিকিৎসায় যেখানে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে রেডিয়েশন থেরাপির গুরুত্বপূর্ণ মেশিন। আর এর জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
   রেডিয়েশন থেরাপির জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার কথা থাকলেও মেশিন বিকল থাকায় অনেক রোগীকেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত দিনে হাসপাতালে এসে জানতে পারছেন—মেশিন চলছে না। ফলে চিকিৎসার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা।

যাতায়াতের খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং শারীরিক কষ্টের পর হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসা না মেলে, তাহলে সেই দায় কে নেবে—এই প্রশ্নই এখন রোগী ও তাঁদের পরিবারের।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন দীর্ঘদিন বিকল থাকার পরও কেন দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না?
হাসপাতালে চিকিৎসার আশায় আসা রোগীদের অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসেন। যাতায়াতের খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং শারীরিক কষ্টের পর হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসা না মেলে, তাহলে সেই দায় কে নেবে—এই প্রশ্নই এখন রোগী ও তাঁদের পরিবারের।
     সরকারি ব্যবস্থায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে ক্যান্সারের চিকিৎসা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু রেডিয়েশন মেশিন দীর্ঘদিন বিকল থাকায় তাঁদের অনেকের কাছেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।

রেডিয়েশন পরিষেবা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে রোগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

একজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনের বিষয় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রেডিয়েশন পরিষেবা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে রোগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
    রোগীদের প্রশ্ন—মেশিন যদি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে? রোগীদের চিকিৎসা যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
    শুধু মেশিন বিকল হওয়াই নয়, রোগীদের অভিযোগ যদি সময়মতো পরিষেবা না পাওয়া, বারবার তারিখ পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষার মতো বিষয় থাকে, তাহলে গোটা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ভবিষ্যতে একটি মেশিন বিকল হলে যাতে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা থমকে না যায়, তার জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক রেডিয়েশন মেশিনের ব্যবস্থা করার দাবি উঠছে।

এদিকে রোগী ও তাঁদের পরিবারের দাবি, দ্রুত বিকল মেশিন মেরামত করে রেডিয়েশন পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মেশিন বিকল হলে যাতে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা থমকে না যায়, তার জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক রেডিয়েশন মেশিনের ব্যবস্থা করার দাবি উঠছে।
      ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন রোগীর কাছে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিষেবা যদি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই।


ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই অব্যবস্থার দায় নেবে কে?

রোগীদের স্বার্থে দ্রুত মেশিন সচল করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি, কেন এতদিন ধরে সমস্যা সমাধান হয়নি—তারও স্পষ্ট জবাব চান রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *