এই সংক্রান্ত ইস্যু কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে বড়জলা বিধানসভার রাজনীতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে রাজীব আতঙ্কে ভোগছে বড়জলার বাম শিবির। তাই কাছা কেচে মাঠে নেমেছেন বাম বিধায়ক সুদীপ সরকার।
ডেস্ক রিপোর্টার ,৯ সেপ্টেম্বর।। শাসক – বিরোধীদের বাক যুদ্ধে তপ্ত শহরের বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশ। বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বড়জলার সিপিআইএম বিধায়ক সুদীপ সরকার। বাম বিধায়ককে তথ্য , প্রমাণ দিয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছেন বিজেপির বড়জলা মন্ডলের সভাপতি রাজীব ঘোষ। সম্প্রতি বড়জলা মন্ডলের উদ্যোগে ঊষা বাজার শনিতলা মাঠে বিজেপির জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সভায় সিপিআইএমের ৯৩ পরিবারের ভোটাররা যোগ দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টিতে। খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেবরায় নতুনদের দলে বরণ করে নিয়েছিলেন।
সমস্যা শুরু এরপরেই। স্থানীয় বাম বিধায়ক সুদীপ সরকার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ” বাম ভোটারদের বল পূর্বক বিজেপিতে যোগদান করানো হয়েছে। তাদের বাড়িঘরে গিয়ে হুমকি দিয়েছে স্থানীয় ভারত রত্ন ক্লাবের সদস্যরা। বাম বিধায়ক সামাজিক সংস্থা ভারত রত্নকেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দেন।” বাম বিধায়ক সুদীপ সরকারের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ে যায়। বুধবার ঊষা বাজার শনিতলা মাঠে সাংবাদিক বৈঠক করেন বড়জলা মন্ডলের সভাপতি রাজীব ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন বাম শিবির ছেড়ে বিজেপিতে আসা ভোটাররাও।
সুদীপ সরকার,( বিধায়ক বড়জলা)
“বড়জলার বাম বিধায়ক সুদীপ সরকার অপপ্রচার শুরু করেছেন। “- রাজীব
বড়জলা মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ জানিয়েছেন, ” বড়জলার বাম বিধায়ক সুদীপ সরকার অপপ্রচার শুরু করেছেন। হতাশাগ্রস্ত হয়ে যোগদান সভার বিষয়টি তিনি ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বামেদের প্রতি আস্থা হারিয়ে মানুষ বিজেপিতে যোগদান করেছেন। রাজীব ঘোষের বক্তব্য, ভারত রত্ন ক্লাবকে সুদীপ সরকার রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এতো দিন ভারত রত্ন ক্লাব বাড়ি ছিল খাসের জায়গাতে। তাই জমির প্রয়োজন বোধে সরকার ক্লাব ঘর ভেঙে দিয়েছে। এখন নতুন জমিতে মাথা তুলে দাঁড়াবে ক্লাব ঘর। রাজীবের প্রশ্ন দীর্ঘ বাম জমানায় ক্লাবটি খাস জমিতে ছিলো। তাহলে বাম নেতারা কেন ক্লাবের জন্য জুত জমি ব্যবস্থা করে দেন নি।
রাজীব ঘোষ ( মণ্ডল সভাপতি, বড়জলা)
তিনি বলেন, একসময় বাম সংগঠনের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন। ছিলেন ১০ বছরের গ্রাম প্রধান। এই মুহূর্তে তার বাম নেতৃত্বের উপর আস্থা নেই।
শনিতলা মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সিঙ্গারবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন বাম গ্রাম প্রধান।তিনি বলেন, একসময় বাম সংগঠনের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন। ছিলেন ১০ বছরের গ্রাম প্রধান। এই মুহূর্তে তার বাম নেতৃত্বের উপর আস্থা নেই। মণ্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষের উপর আস্থা প্রদর্শন করেই তিনি স্ব-ইচ্ছায় বিজেপিতে যোগদান করেছেন। রাজীব ঘোষ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন। কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ভোটারের বক্তব্য, বিরোধী শিবিরে উপযুক্ত কোনো নেতা নেই। ভারতীয় জনতা পার্টির উন্নয়ন মূলক কাজের উপর আস্থা রেখেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন স্ব – ইচ্ছায়। তাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য কেউ চাপ সৃষ্টি করে নি।
সিপিআইএমের প্রাক্তন গ্রাম প্রধান
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষের উপর আস্থা রেখেই তিনিও গা ভাসিয়েছেন পদ্ম বনে।
একই সুরে কথা বলেছেন পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়া আরও এক ভোটার। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষের উপর আস্থা রেখেই তিনিও গা ভাসিয়েছেন পদ্ম বনে। সাংবাদিক বৈঠকের শেষ লগ্নে মন্ডল সভাপতি রাজীব ঘোষ বাম বিধায়ক সুদীপ সরকারকে কটাক্ষ করে বলেছেন, বর্তমানে বিধায়ক কালী মন্দির, শনি মন্দির তৈরি করা সহ সনাতন ধর্মের নানান কাজ কর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। সনাতনী মনোভাব নিয়ে কাজকর্ম করার জন্য বিধায়ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজীব।
ঊষা বাজারের শনিতলা মাঠে অনুষ্ঠিত বিজেপির জনসভার চিত্র।
এই সংক্রান্ত ইস্যু কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে বড়জলা বিধানসভার রাজনীতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে রাজীব আতঙ্কে ভোগছে বড়জলার বাম শিবির। তাই কাছা কেচে মাঠে নেমেছেন বাম বিধায়ক সুদীপ সরকার।