ডেস্ক রিপোর্টার, ২রা নভেম্বর।।
বিএসএফ – গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কলমচৌড়া থানার আশাবাড়ি নতুন বাজার এলাকা। এই ঘটনায় তিন জন বিএসএফ জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন গ্রামবাসীও। আহতরা প্রত্যেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনা সোমবার দুপুরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ। বিএসএফ ও গ্রামবাসী উভয়ের পক্ষ থেকেই কলমচৌড়া থানায় মামলা পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বক্তব্য, এদিন সকালে বক্সনগর আশা বাড়ি পিওপি সংলগ্ন ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর সীমান্ত গেটের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পাচারকারীরা কিছু পণ্য সামগ্রী ওপার সীমান্তের বাংলাদেশে পাচার করছিলো। এই সময় বিষয়টি নজরে পড়ে সীমান্তে কর্তব্যরত ৪৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের বিএসএফ জওয়ানদের। সঙ্গে সঙ্গে তারা পাচারকারীদের ধাওয়া করে। তারা হেফজুর রহমান নামে এক যুবককে পাচারকারী সন্দেহে আটক করে।

হেফজুর দাবি করে, সে পাচার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। বিনা কারণে বিএসএফ তার উপর অত্যাচার করে। এবং তার পা ভেঙে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, বিএসএফ হেফজুর রহমানকে প্রচন্ডভাবে মারধর করে ফেলে দিয়ে যায় ।তার পা দিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। উপস্থিত লোকজন হেফজুরকে নিয়ে যায় বক্সনগর হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়।
খবর অনুযায়ী, হেফজুর রহমানকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সীমান্ত গ্রামের লোকজন বক্সনগর – রহিমপুর রাস্তা অবরোধ করে। এমন সময় রহিমপুর কাটামুড়া বিওপির তিন বিএসএফ জওয়ান গাড়ি নিয়ে অবরোধস্থলে চলে আসে। তাদেরকে দেখে অবরোধকারী উত্তেজিত গ্রামবাসীরা হায়নার মতো আছড়ে পড়ে। তিন বিএসএফ জনকে প্রচন্ডভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের সার্ভিস রাইফেল। খোদ মহিলারা হামলা করে বিএসএফ জওয়ানদের। ঘটনাস্থলে থাকা বিএসএফের গাড়িটি ভেঙ্গে চৌচির করে দেয় গ্রামবাসীরা।

বিএসএফের বক্তব্য, গ্রামবাসীদের সঙ্গে জড়িত ছিলো পাচারকারীরা। তাদের সঙ্গে ছিলো বাংলাদেশী নাগরিক। তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে বিএসএফকে আক্রমণ করে। জওয়ানদের হত্যা করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
তিন বিএসএফ জওয়ানের উপর আক্রমণের খবর পেয়ে বিওপি থেকে অন্যান্য জওয়ানরাও ছুটে আসে। তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাচারকারী সহ বাংলাদেশী নাগরিকরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ,। আহত জওয়ানদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

