ডেস্ক রিপোর্টার,২৩ সেপ্টেম্বর।।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচন। ভোটের হাওয়া যখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে, ঠিক তখনই মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কুমারঘাট মহকুমার ফটিকরায় বিধানসভার অধীন ডেমডুম এডিসি ভিলেজের চার নম্বর ওয়ার্ডের রবিধন পাড়া এলাকার বাসিন্দারা।এই পাড়ায় ৩৫টি পরিবারের বসবাস। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই পাহাড়ি জনপদের মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা নেই, বিদ্যুতের চরম সমস্যা এবং যোগাযোগের দৈন্যদশা প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে এলাকার শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত—প্রতিটি পদক্ষেপে যেন পাহাড়প্রমাণ সংকট। এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ, দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুৎ ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের লিখিত আবেদন জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দফতরে দপ্তর ঘুরেও কাজের দেখা মেলেনি, কোনো আধিকারিক তাদের কথা কানে তুলে নি।নির্বাচন ঘিরে যেখানে নানা প্রতিশ্রুতি উঁকি মারছে, সেখানে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন এলাকার মানুষ—ভোটের আগেই বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও রাস্তাঘাটের স্থায়ী সমাধান না হলে এবারের নির্বাচনে তারা পুরোপুরি ভোট বয়কট করবেন।
এদিকে, রবিধন পাড়ার বাসিন্দাদের ভোট বয়কটের ডাক ও তীব্র ক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তড়িঘড়ি এলাকায় ছুটে যান বিদ্যুৎ দপ্তরের কুমারঘাট মহকুমার এজিএম, কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজার এবং পূর্ত দপ্তরের কুমারঘাট ডিভিশনের অধীন গঙ্গানগর পূর্ত দফতরের দপ্তরের এসডিও। সাথে ছিলেন কুমারঘাট মহকুমার বেশ কয়েকজন সমাজসেবীও। তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের দীর্ঘদিনের জমানো অভিযোগ শোনেন।
উল্লেখ্য,সংশ্লিষ্ট এলাকার একমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির অবস্থাও অত্যন্ত সঙ্গিন। পরিষেবা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। এখন দেখার, নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ায় প্রশাসনিক কর্তাদের এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত রবিধন পাড়ার ৩৫টি পরিবারের ভাগ্য বদলাতে পারে কিনা, নাকি তাদের ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবেন এলাকাবাসী।

