বিদায়ী এমডিসি ভূমিকা নন্দ রিয়াংকে এবারও বিজেপি টিকিট দিয়েছিল গঙ্গানগর – গণ্ডাছড়া থেকে। জয় নিয়ে আত্ম বিশ্বাসী ছিলেন দুর্নীতিবাজ ভূমিকা। কিন্তু মানুষ তাকে ভোট দেয় নি। ভোটাররা ওয়াকিবহাল ছিলেন তার দুর্নীতি নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ফল যা হওয়ার, তাই হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্টার,১৭ এপ্রিল।।
এডিসি নির্বাচনে তিপ্রামথার কাছে এতো বড় পরাজয় অপ্রত্যাশিত ছিলো ভাজপা শিবিরের। নির্বাচনে পরাজিত হলেও লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। অন্তত এটাই আশা করেছিলো বিজেপি নেতৃত্ব। পুলিশ – গোয়েন্দার রিপোর্টেও ছিলো একই ইঙ্গিত। কিন্তু শুক্রবার পাহাড় ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপির সমস্ত আশা – আকাঙ্ক্ষা বালিতে মিশে যায়। ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় একে একে দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মুখ থুবড়ে পড়ে।

এবারের এডিসি নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা। পাহাড় যুদ্ধে বিপিন ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার অন্যতম সৈনিক। তিনি দলের টিকিটে লড়াই করেছিলেন ডেমছড়া – কচুছড়া আসন থেকে। কিন্তু নির্বাচনে বিপিন হতাশ করেন। এবং পরাজিত হন।

এই তালিকায় ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার মেয়ের জামাই বিল্লু জমাতিয়া। তিনি লড়াই করেন মহারানীপুর – তেলিয়ামুড়া কেন্দ্র থেকে। কিন্তু মন্ত্রী শ্বশুর বিকাশ দেববর্মা অনেক চেষ্টা করেও জামাইকে বৈতরণী পার করতে পারেন নি। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকার বড় নাম প্রাক্তন এমডিসি সদাগর কলই। তিনি ভোটের মুখে মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পেয়েছিলেন টিকিট। অম্পি নগর আসন থেকে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু জয়ের মুখ দেখেন নি।

একই ভাবে তিপ্রামথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন এডিসি অনন্ত দেববর্মা। তিনি বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন হালাহালি – আশারাম বাড়ি কেন্দ্র থেকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ অনন্তকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় জনজাতি ভোটাররা।

বিদায়ী এমডিসি ভূমিকা নন্দ রিয়াংকে এবারও বিজেপি টিকিট দিয়েছিল গঙ্গানগর – গণ্ডাছড়া থেকে। জয় নিয়ে আত্ম বিশ্বাসী ছিলেন দুর্নীতিবাজ ভূমিকা। কিন্তু মানুষ তাকে ভোট দেয় নি। ভোটাররা ওয়াকিবহাল ছিলেন তার দুর্নীতি নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ফল যা হওয়ার, তাই হয়েছে। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় ছিলেন বিদায়ী এডিসি পদ্ম লোচন ত্রিপুরা। তিনি লড়াই করেছিলেন কাঠালিয়া – মির্জা – রাজাপুর আসন থেকে। কিন্তু নির্বাচনে করেন সুপার ফ্লপ। তার কপালেও লিখা ছিলো পরাজয়।
পরিশেষে বলতে হয়, বিজেপি হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে ছিলো তাদের অপরিপক্ব রাজনৈতিক সেন্স।
তালিকায় ছিলেন বিজেপির জনজাতি মোর্চার প্রথম সারির যুব নেতা ডেভিড দেববর্মা। তিনি লড়াই করেন রামচন্দ্র ঘাট থেকে। কিছুই করতে পারেন নি। ডেভিডের পরাজয় ভোটের আগেই লিখে ফেলেন মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। বাস্তবে এটাই হয়েছে। পরিশেষে বলতে হয়, বিজেপি হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে ছিলো তাদের অপরিপক্ব রাজনৈতিক সেন্স।রাজনীতিকদের কথায়, পাহাড়ের রাজনীতির ২২ গজে বাতাস কোন দিকে বইছে, তা আন্দাজই করতে পারেন নি বিপিন – ভূমিকা – পদ্ম লোচনরা।

